হাইমচর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৬ নং চরভৈরবী ইউনিয়নে মাদক নির্মূলে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী আখন। মাদক সেবী ও কারবারিদের সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি ও তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি এই আল্টিমেটাম প্রদান করেন। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য আলোচনায় থাকা এই সদস্যের নতুন এই পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী আখন তার বিবৃতিতে জানান, মাদক সমাজ ও যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যারা এই অন্ধকার পথে পা বাড়িয়েছেন, তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে মাদক সেবন ও কারবার ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় কঠোর আইনি ও সামাজিক প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে। এই অভিযান সফল করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন।
চরভৈরবী ৩নং ওয়ার্ডটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ইউপি সদস্যের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।চরভৈরবী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিতু হাওলাদার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি বাদল বকাউল বলেন, “৩ নং ওয়ার্ড মাদকের জন্য আলোচিত এলাকা। ইউপি সদস্যের এই সাহসী উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”সামাজিক সংগঠন তরুণ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি সুমন ফকির সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
তবে সচেতন মহলের দাবি, এই অভিযান কেবল একটি ওয়ার্ডে সীমাবদ্ধ রাখলে মাদক কারবারিরা পার্শ্ববর্তী এলাকায় আস্তানা গড়তে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা মিল্টন ও আবু তাহের জানান, ৩ নং ওয়ার্ডের পাশাপাশি ২ নং ওয়ার্ডের সুপারি বাগানগুলোতে মাদকসেবীদের আড্ডা অনেক বেশি। তাই পুরো ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “ইউপি মেম্বারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত ইতিবাচক। তার মতো যদি সকল জনপ্রতিনিধি নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিতেন, তবে পুরো হাইমচর উপজেলাকে মাদক মুক্ত করা অনেক সহজ হতো।”
এলাকাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে জনপ্রতিনিধি ও জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান চরভৈরবী ইউনিয়নে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।













