ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। নদীটির জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছ রক্ষায় এক বিশেষ অভিযানে আনুমানিক ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মৎস্য বিভাগ ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র নিষিদ্ধ রিং জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ডাকাতিয়া নদীতে নির্বিচারে মাছ শিকার করে আসছিল। এতে নদীর রেনু পোনা ও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নদীপথে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে নদী থেকে প্রায় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল এবং ২০টি ক্ষতিকর রিং ও চাঁই জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত এসব অবৈধ জাল জনসমক্ষে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ আর এম জাহিদ হাসান বলেন, ডাকাতিয়া নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধ মৎস্য নিধন রোধে প্রশাসন আপসহীন। পর্যায়ক্রমে পুরো নদীকে দখলমুক্ত এবং সব ধরনের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করতে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই ধরণের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কোনো চক্রকেই নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে, জাতীয় মৎস্য সম্পদ ও নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনের এমন জোরালো ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে ফরিদগঞ্জের স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই অভিযানের ধারাবাহিকতা যেন বছরজুড়ে বজায় থাকে, প্রশাসনের প্রতি সেই আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।













