স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আল-মদিনা একাডেমিতে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে আল-মদিনা একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। তবে সম্প্রতি একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তাদের দাবি, গত ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা একাডেমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করা হচ্ছে, যা তাদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় তারা প্রায়ই কিছু লোককে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুনেছেন। ভাঙচুরের ঘটনার পরও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক না করায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে আমির হোসেন বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য। ঘটনার চার দিন পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় আমরা হতাশ। আমাদের সন্তানেরা এখানে পড়ে—তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।”
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হোসেন জানান, ২৬ এপ্রিল সকালে স্কুলে এসে তারা কিছু ডাস্টবিন ভাঙা ও নিখোঁজ দেখতে পান। নিরাপত্তা জোরদার করতে বিকল্প গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন ২৭ এপ্রিল আবারও দুর্বৃত্তরা কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের টেবিল-বেঞ্চ ভাঙচুর করে ভেতরে ও বাইরে ফেলে রেখে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি শরিফ মজুমদার বলেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।













