চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী (১৬) এক কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। নবজাতকটির কোনো পিতৃপরিচয় জানা যায়নি। বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক দিক বিবেচনা করে মা ও নবজাতকের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কিশোরী ও নবজাতককে দেখতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিশুটির জন্য উপহার সামগ্রী প্রদান করেন এবং মা ও নবজাতকের চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থার খোঁজখবর নেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, মা ও শিশু দুজনই বর্তমানে সুস্থ ও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতোমধ্যে শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। তবে আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যে পরিবারটি শিশুটির নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে, তাদের কাছেই শিশুটিকে হস্তান্তর করা হবে।
ডিসি’র হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহাবুবুর রহমান ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. কাজলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী একই কাপড়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। তার অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা কয়েকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার চেষ্টা করলেও কিশোরীটির আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
শাহনাজ বেগম নামে স্থানীয় এক নারী জানান, তিনি প্রথমে কিশোরীটিকে শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দেখতে পান। এরপর মানবিক কারণে তাকে উদ্ধার করে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও প্রসব বেদনা লক্ষ্য করে তিনি গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১১টার দিকে তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে কর্মরত চিকিৎসক দ্রুত তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করেন। সেখানেই শনিবার (৪ জুলাই) কিশোরীটি একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার জানান, প্রসূতি ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে তীব্র মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ওই কিশোরী নিজের নাম-পরিচয় কিংবা সন্তানের বাবার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারছে না।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, “রোগী ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের সুস্থতায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”













