নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর পালাখালসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠ এখন সরিষা ফুলের হলুদ হাসিতে রঙিন। শীতের সোনাঝরা রোদে মাঠের পর মাঠ হলদে বরণ সরিষা ক্ষেত চিকচিক করছে। মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া সরিষা ফুলের গন্ধে আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। ফলন ভালো হওয়ার আভাসে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের মুখে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কচুয়ায় মোট ২৭৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ভালো বাজারদর এবং কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা এবার সরিষা চাষে অনেক বেশি আগ্রহী হয়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সরিষার হলুদ ফুল প্রকৃতিতে এক অনন্য সৌন্দর্য যোগ করেছে। কেবল পথচারী নয়, এই দৃশ্য কৃষকের মনকেও উজ্জীবিত করছে। সরিষার ফাঁকে ফাঁকে ফল পরিপাকের আভাস দেখা দেওয়ায় বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা।
সফিবাদ গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এ বছর আমরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সরিষা আবাদ করেছি। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে আছে, আশা করছি লাভ ভালো হবে।” একই গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি ও আলমাছ শিকারী জানান, সরিষা চাষে বাড়তি খরচ ও পরিশ্রম খুবই কম। সরিষা রোপণের পর শুধু সার দিলেই চলে, আলাদা করে সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলে স্বল্প খরচে এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল।
সরিষার আবাদ বাড়ায় খুশি মধু আহরণকারীরাও। মধু সংগ্রাহক হাবিব জানান, গত বছরের তুলনায় সরিষা ক্ষেত বেশি হওয়ায় এবার মধু উৎপাদনও কয়েক গুণ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে, এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরাও। বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা নুরুন্নবী পাঠান বলেন, “রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। তাই বন্ধুদের নিয়ে ভিডিও করতে এবং এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এলাম।”
কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তপু আহমেদ বলেন, “সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদী ও লাভজনক ফসল। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, যা দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com











