নিজস্ব প্রতিবেদক:
“Every Contribution Matters—প্রতিটি অবদানই মূল্যবান” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন এবং বদলাও ইয়ূথ ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। এই উপলক্ষে জেলার শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নেন।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে এক প্রাণবন্ত র্যালি বের হয়। অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে মানবিক সেবা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেন। র্যালিটি চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর ক্লিন, বিডি ক্লিন চাঁদপুর, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউট, সোনালী সুদিন, নবজাগরণ গোল্ডেন ফাউন্ডেশন, চাঁদপুর নিউওয়ে বহুমুখী সমবায় সমিতি, স্বদেশ মহিলা যুব কল্যাণ সমিতি, গ্রীন লাইফ যুব কল্যাণ সমিতি, ইউডিএ, ইউএসডব্লিউ, স্বপ্নছায়া, সততা সমাজসেবাসহ অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছসেবী সংগঠনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
র্যালি শেষে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম সরকার।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম।
স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ক্লিন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অ্যাড. নুরুল আমিন আকাশ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বদলাও ইয়ূথ ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি মুহাম্মদ আবদুর রহমান রিজভি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বদলাও ইয়ূথ এন্ড উইমেন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন-এর সভাপতি মাহমুদা আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশ্য করে অনুপ্রেরণামূলক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি একটি পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর অল্প কয়েকদিনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি চাঁদপুরের রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার রাখা, শহিদ মিনার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতায় সক্রিয় হওয়া, রাস্তার পশুপাখির যত্ন নেওয়া, সদর হাসপাতালের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া, শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা এবং সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি স্বেচ্ছাসেবীদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
অন্য বক্তারা বলেন, স্বেচ্ছায় সেবা কেবল মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের শক্তিশালী বাহক। তারা উল্লেখ করেন যে, স্বেচ্ছাসেবীরা কোনো প্রতিদান বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা ছাড়াই সমাজ পরিবর্তন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবস আজ বিশ্বের ১০০ কোটিরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অংশ হিসেবে বদলাও ইয়ূথ ফাউন্ডেশনের ১০ বছরপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কেক কাটেন।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













