নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গুরুতর আহত গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার (২৪) মারা গেছেন। গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইয়াসমিন আক্তার হাইমচর উপজেলার চান্দ্রা বাজার এলাকার ইমরান হোসেনের স্ত্রী। তিনি তার তিন বছরের শিশুসন্তান বায়েজিদকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরে মতলব-গৌরীপুর সড়কের নাগদা সেতু এলাকায় ঢাকা অভিমুখী ‘জৈনপুর পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে উল্টে পড়ে যায়। এ সময় বাসে থাকা ২৫-৩০ জন যাত্রীর মধ্যে ইয়াসমিন আক্তার ও তার শিশুসন্তানসহ অন্তত ১৭ জন আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ইয়াসমিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা লড়াই করার পর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহতের স্বামী ইমরান হোসেন জানান, তারা সপরিবারে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত রবিবার তিনি তার তিন বছরের ছেলে বায়েজিদকে নিয়ে চাঁদপুরের এক কবিরাজের কাছে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন।
সোমবার দুপুরে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মুন্সিরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকায় ফেরার উদ্দেশ্যে তারা জৈনপুর পরিবহনে ওঠেন। দুপুর দুইটার দিকে বাসটি নাগদা সেতু এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি সরাসরি খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ইয়াসমিনের শিশুসন্তান বায়েজিদও আহত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ চালায়। পুলিশ জানায়, ঘাতক বাসটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চালক ও তার সহকারী ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে।
নিহত ইয়াসমিনের মৃত্যুতে তার পরিবার ও নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













