নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চাঁদপুর ডাকাতিয়া নদীতে উদ্ধার হলো ষোড়শী কিশোরী ফারজানা আক্তার ফাতেমার অর্ধগলিত মরদেহ। শহরের দর্জি ঘাট এলাকা থেকে রোববার সকালে চাঁদপুর নৌ পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে ট্রলারচালক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ফারজানাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যাকে ঘটনার পরপরই আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
নিহত ফারজানা আক্তার ফাতেমা (১৬) শহরের কয়লাঘাট এলাকার ভাড়াটিয়া আলী হোসেনের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের কাউনিয়া থানার পশ্চিম কাউনিয়া গ্রামে।
নৌ-থানার ওসি ইকবাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডাকাতিয়া নদীতে কচুরিপানার সঙ্গে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় জেলেরা পুলিশকে খবর দেন। প্রথমে মডেল থানার এসআই আওলাদ হোসেন ও নাজির শাহ ঘটনাস্থলে যান। পরে নৌ-পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফারজানার বাবা আলী হোসেন। তিনি মেয়ের পোশাক দেখেই মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, গত বুধবার বিকেলে ফারজানা বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং এরপর আর ফেরেনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন, গত ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ডাকাতিয়া নদীর পুরান বাজার এলাকায় ট্রলারচালক মনির হোসেন ফারজানাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। ঘটনার সময় পাশে থাকা অন্য ট্রলারের চালকেরা মনিরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ট্রলারচালক মনির হোসেন জেলহাজতে আছেন।
নৌ-থানার ওসি ইকবাল হোসেন আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফারজানার পরিবার এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া নূর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন একটাই প্রশ্ন—মৃত্যুর আগে কিশোরী ফারজানার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল? কেনইবা সে ওই সময় জেলে নৌকার কাছে গিয়েছিল? পুলিশ বলছে, সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে তারা বদ্ধপরিকর।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













