নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের কচুয়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নং বিতারা ইউনিয়নের সাদির পার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মিমাংসার নামে কালক্ষেপণ করে ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় ‘এশা প্রিতুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের’ দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামে বসবাস করায় শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তার নানা আবুল কালামের ভাতিজা আব্দুর রহিমের ছেলে ও সাচার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র কায়েস (১৫) শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষা খেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার নানা। ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে কান্নাকাটি করে বিষয়টি পরিবারকে জানায়।
শিশুটির খালার অভিযোগ, ঘটনার পর তারা কচুয়া থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাদের বাধা দেয়। তারা বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন টালবাহানা করতে থাকে। এমনকি শিশুটিকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতেও বিলম্ব ঘটানো হয়। প্রভাবশালীরা মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত কায়েসকে আটক করলেও প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাতেই কায়েসের পরিবার তাকে এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। বর্তমানে সে আত্মগোপনে রয়েছে।
অবশেষে স্থানীয় বাধা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com













