হাইমচর প্রতিনিধি:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে চলমান কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) বর্জন এবং কর্মবিরতি চলছে। এতে উপজেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় হাইমচর উপজেলার শিক্ষকরা এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। উপজেলার মোট ৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মূল্যায়ন বর্জনের মাধ্যমে কর্মবিরতি পালন করছেন। শিক্ষকদের এই বর্জনের ফলে নির্ধারিত সময়ে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু করা যায়নি।
হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় এই বর্জনে সামিল হয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি স্কুল হলো ৫৬ নং ষাট ভাওর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫২ নং খলিফাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ নং দক্ষিণ পূর্ব গাজীপুর সঃপ্রাঃবিঃ, ১৮ নং চরভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪ নং মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৩ নং জালিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ নং বাজাপ্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫১ নং মহনপুর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৫ নং নেপালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৭ নং শুল্যকিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩ নং মধ্যভিঙ্গুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪২ নং বাবুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৮ নং ইব্রাহিম মৃধার কান্দি, ২৭ নং চরশোলাদি কে বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক পোস্টে সকল শিক্ষককে কর্মবিরতি ও মূল্যায়ন বর্জনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “কেন্দ্র ঘোষিত ৩ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত হাইমচর উপজেলায় তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন বর্জন করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হল।”
তিনি আরো বলেন, “তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন বর্জন করতে হবে জেলা অথবা উপজেলার সকল স্কুল একসাথে। মনে রাখবেন দুই একজন পরীক্ষা নিলে প্রশ্ন কিন্তু ফাঁস হয়ে যাবে। তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক হাইমচরেও তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন বন্ধ থাকবে।” একইসঙ্গে তিনি শিক্ষক সমিতির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না করার বিষয়েও সতর্ক করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের মূল দাবি হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন। অন্যান্য সুনির্দিষ্ট দুই দফা দাবি।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এই কর্মবিরতির কারণে পাঠদান ও মূল্যায়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













