Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

Magazines cover a wide array subjects, including but not limited to fashion, lifestyle, health, politics, business, Entertainment, sports, science,

  • Home
  • সর্বশেষ
  • হাইমচরে আলু চাষে বাম্পার ফলনের আশা, তবে কাটেনি লোকসানের আতঙ্ক

হাইমচরে আলু চাষে বাম্পার ফলনের আশা, তবে কাটেনি লোকসানের আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো হাইমচরেও শুরু হয়েছে আলুর আবাদ। তবে গত বছরের ভয়াবহ লোকসান আর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার ক্ষত এখনো শুকায়নি স্থানীয় কৃষকদের মনে। একদিকে বাম্পার ফলনের আশা, অন্যদিকে বাজারদর নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের দোলাচলে দিন কাটছে উপজেলার আলু চাষিদের। অনেকে লোকসান সইতে না পেরে পেশা বদল বা প্রবাসে ফেরার চিন্তাও করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে আলুর ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে তাদের চোখেমুখে হাসির চেয়ে দুশ্চিন্তার ছাপই বেশি। পূর্ব চর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক সেলিম জমাদার। প্রবাস ফেরত এই কৃষক নিজের জমি না থাকায় ৪২ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে আলু চাষ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “প্রবাস থেকে এসে কৃষি কাজ শুরু করেছি, কিন্তু কয়েক বছরে লাভের মুখ দেখিনি। গত বছর অনেক লোকসান হয়েছে। এবারও চাষ করেছি, কিন্তু দাম না পেলে আর চাষ করবো না। ভাবছি আবার প্রবাসে ফিরে যাব।”

একই চিত্র দক্ষিণ আলগী গ্রামে। সেখানকার চাষি সাইফউদ্দিন জানান, গত বছর আলুর দাম এতোই কম ছিল যে উৎপাদন খরচই ওঠেনি। ক্ষোভে আর দুঃখে তিনি সেই আলু তার গরুকে খাইয়েছেন। লোকসানের ভয়ে এ বছর তিনি চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

নয়ানী গ্রামের চাষি লিটন রাঢ়ী ৭০ শতাংশ জমিতে আলু বুনেছেন। তিনি বলেন, “ফলন ভালো হলেও দাম পাওয়া যায় না। আমরা কৃষক মানুষ, চাষাবাদ করেই খাই, তাই বাধ্য হয়ে করছি। সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তবেই আমরা রক্ষা পাব।”

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় আবাদের পরিমাণ কিছুটা কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাকিল খন্দকার বলেন, “আমরা মাঠ পরিদর্শন করছি এবং বর্তমানে আলুর অবস্থা বেশ ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান শীতের তীব্রতায় আলুর ‘লেইট ব্লাইট’ বা মড়ক রোগ দেখা দেওয়ার একটি ঝুঁকি থাকে। এই বিপর্যয় মোকাবিলায় কৃষি অফিস থেকে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়। তিনি কৃষকদের উৎসাহিত করতে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাধারণ কৃষকদের দাবি, ফলন ভালো হলেও সঠিক বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাবে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। হিমাগার সুবিধা এবং সরকারি পর্যায়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আলু ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। অন্যথায়, সেলিম জমাদারের মতো অনেক কৃষকই কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়ে আবারও বিদেশের পথে পাড়ি জমাবেন।

আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts