নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “ওসমান হাদির মৃত্যুর দায় বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। শুধু তাই নয়, সারা দেশের বিশেষ করে ঢাকা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চরম অবনতি ঘটেছে, তার দায়ভারও এই সরকারকেই বহন করতে হবে।”
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিটঘর বাজার বালুর মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা এবং তারেক রহমানের ঘোষিত ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এই সভার আয়োজন করে।
রুমিন ফারহানা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিকদের মধ্যে এক ধরনের ভয় তৈরি হয়েছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি, নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার জন্য ৫০ থেকে ৬০ জন এমপির একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। হায়াত-মওত ও হেফাজতের মালিক আল্লাহ, কিন্তু সরকারের দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সরকার তার এই মৌলিক দায় এড়াতে পারে না।”
জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে কার কার বাড়িতে এবং কার হেফাজতে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, সেগুলো যদি কারো কাছে পাওয়া যায়, তবে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন, ভোটার হবেন এবং যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন, তাদের প্রত্যেকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
নিজের নির্বাচনী এলাকা সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন রুমিন ফারহানা। উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, তবে মার্কা যাই হোক, আমি সরাইল ও আশুগঞ্জ থেকেই আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমি যা বলি, তা-ই করি। ভালো হলে ভালো, মন্দ হলে আমার কিছু করার নেই। আমি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী।”
পানিশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com













