নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুর জেলা শহরের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সহজ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘চাঁদপুর সেতু’। ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর উত্তর পাড়ে অবস্থিত উদ্বোধনী নামফলকটি এখন চরম অবহেলা আর অযত্নে বিলীন হওয়ার পথে।
২০০৫ সালের ১৪ মার্চ (৩ চৈত্র ১৪১১ বঙ্গাব্দ) তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চাঁদপুর-রায়পুর-বেগমগঞ্জ সড়কে ডাকাতিয়া নদীর ওপর এই সেতুটি উদ্বোধন করেন। ইচলী ফেরিঘাটের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব এবং চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসনে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর উত্তর পাড়ে থাকা নামফলকটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং এর কাঠামো ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ বছরেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে নামফলকটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য সিমেন্ট-বালুর অভাবে যেকোনো সময় ফলকটি ধসে গিয়ে ইতিহাসের স্মৃতি মুছে যেতে পারে।

সেতু দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী সিএনজি অটোরিকশার এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধক হিসেবে এই নামফলকটি আমাদের জেলার একটি গর্বের স্মারক। কিন্তু এটি এখন ভেঙে পড়ে যাচ্ছে, অথচ কারও যেন নজর নেই।”
বাগাদী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি নির্মাণের ফলে ফরিদগঞ্জ, রায়পুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের মানুষ খুব সহজেই চাঁদপুর হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা বরিশালে যাতায়াত করতে পারছেন। জনস্বার্থে এত বড় অবদান রাখা নেত্রীর নামফলকটি এভাবে অযত্নে পড়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা দ্রুত সড়ক ও জনপথ বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২৪ ঘণ্টা যানবাহনে ব্যস্ত থাকা এই সেতুটি সন্ধ্যার পর বিনোদন কেন্দ্রেও পরিণত হয়। অথচ দৃষ্টিকটুভাবে ভেঙে পড়া এই নামফলকটি আগত দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সেতুর স্থপতির সম্মান রক্ষার্থে দ্রুত এই ফলকটি সংস্কার করা হোক।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













