স্টাফ রির্পোটার:
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সম্প্রতি প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী তাণ্ডব এবং ধারাবাহিক গুলির ঘটনার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবার কঠোর অবস্থানে। নগরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ এক যুগান্তকারী নির্দেশনা জারি করেছেন। কমিশনারের নির্দেশ, ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রতিহতের লক্ষে টহল ও থানা ইউনিটগুলোকে সাবমেশিনগান (এসএমজি) থেকে ব্রাশফায়ার মোডে রাখতে হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে কমিশনারের এই জরুরি ওয়ারলেস বার্তা সিএমপির সব ইউনিটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নগরে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্রবাজি রোধে সিএমপি এবার প্রতিহিংসাত্মক নয়, বরং কড়া বার্তা দিয়েছে। কমিশনারের বার্তা স্পষ্ট: অস্ত্রধারী কেউ শহরের ভিতরে ঢুকলেই স্বাধীনভাবে আক্রমণ ঠেকাতে পুলিশকে সক্রিয় রেসপন্স বা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “দেখামাত্র ব্রাশফায়ার নিরস্ত্র জনসাধারণের বিরুদ্ধে নয়—যার হাতে অস্ত্র নেই, তার ওপর তো আর এসএমজি ইউজ করব না।” তবে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন, “যারা প্রকাশ্যে জনসম্মুখে মানুষ হত্যা করছে, তাদের প্রতিহত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী যারা তাদের জন্য এই নির্দেশনা। আমার এলাকায় ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটা খুন করে গেল (বায়েজিদের চালিতাতলী)। এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে তারা যেন আর সাহস না পায়। তারা যেন স্বপ্নেও এটি কল্পনা করতে না পারে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা।”
গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ-চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ সভার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তালিকাভুক্ত সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন এবং এরশাদ উল্লাহ আহত হন। সরোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই নগরে সশস্ত্র তৎপরতা এবং প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগে সাধারণ জনমনে উৎকণ্ঠা বেড়েছে। এসব ঘটনায় মূল অপরাধীদের এখনও ধরা সম্ভব না হওয়ায় সমালোচনাও রয়েছে।
কমিশনারের নতুন নির্দেশনায় টহল টিমগুলোকে এসএমজি ছাড়াও শিশা শটগান, দুটি গ্যাস গান ও টিম ইনচার্জদের নাইন মিমি পিস্তল বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, নগরে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে স্থায়ী চেকপোস্টের সংখ্যা সাত থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করা হবে। পাহাড়ি এলাকা থেকে নগরের মধ্যে অস্ত্র-সামগ্রী আনা ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হবে।
সিএমপি কমিশনার পুলিশ সদস্যদের দেশী দণ্ডবিধি (৯৬ থেকে ১০৬ ধারা) অনুসারে আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশ সদস্যদের অভয় দিয়ে বলেছেন, এই নির্দেশের কারণে উদ্ভূত সব নিয়ত দায় কমিশনার নিজেই বহন করবেন।
কমিশনারের ভাষ্য সংবাদে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “আমরা করি চালিতাতলী বায়েজিদে কুখ্যাত সন্ত্রাসী যারা লোক মারল, তাদের ঠেকানোর জন্য। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি করে মেরা ফেলা হবে।”
কমিশনারের এই কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনায় সিএমপি ফোর্সের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
- বন্দর জোনের এক সহকারী কমিশনার (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, “অনেক সময় আইনি জটিলতার কারণে আমরা দ্বিধায় থাকি, কিন্তু এবার সবাই বুঝেছে—সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই।”
- কোতোয়ালি থানার এক পরিদর্শক জানান, “এসএমজি রেসপন্স মোড মানে বেপরোয়া গুলি নয়, বরং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের সাহস দেওয়া। আইন মেনে দাঁড়িয়ে লড়তে হবে, ভয় নয়।”
- ডিবি (উত্তর) বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “কমিশনার বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা পুরো ফোর্সের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আগের মতো আর কেউ ভাববে না, অস্ত্র হাতে নিয়ে শহরে প্রবেশ করা সহজ।”
আরো পড়ুন; https://haimcharprotidin.com/













