নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে নির্বাচনি সংস্কৃতির এক ব্যতিক্রমী ধারার সূচনা করতে চাইছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজের নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে সাধারণ ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে এই আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান তিনি। পোস্টে তিনি নিজের বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যও প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে জয়নাল আবেদীন লিখেছেন, “নির্বাচনি সংস্কৃতির পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার অঙ্গীকার নিয়ে সমর্থকদের কাছে নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য আমি আর্থিক সহায়তা চেয়েছি। আমি ভোটার, আমি নাগরিক, আমি দেশের মালিক! আমার ভোটে, আমার টাকায় আমার এলাকার জনপ্রতিনিধি আমি নির্বাচিত করব।”
তিনি আরও যোগ করেন, সাধারণত প্রার্থীরা কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও নির্বাচন কমিশনের কাছে মিথ্যা হিসাব দাখিল করেন। তিনি এই ‘মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে’ রাজনীতি করতে চান না। তার দাবি, ভোটারদের টাকায় নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছর জনগণের কাছে জনপ্রতিনিধির ‘কড়ায়-গণ্ডায়’ হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
চাঁদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নিয়ে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সচেতন ভোটাররা বলছেন, জয়নাল আবেদীন মূলত ঢাকা-৯ আসনের এনসিপি প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, বরিশাল-৩ আসনে এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির আব্দুল হান্নান মাসউদের দেখানো পথেই হাঁটছেন। তারাও একইভাবে ক্রাউড ফান্ডিং বা জন-অংশীদারত্বের মাধ্যমে নির্বাচনি খরচ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
জয়নাল আবেদীন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, চাঁদপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২২ হাজার ২৪৭ জন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী (ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হিসেবে) তিনি সর্বোচ্চ ৫২ লাখ ২২ হাজার ২৭০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। এই পুরো অর্থই তিনি সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
পোস্টের শেষে তিনি একটি স্লোগানও যুক্ত করেছেন— ‘ভোট দেব-টাকা দেব, দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব’।
এ বিষয়ে জয়নাল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। চাঁদপুরবাসীর উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। প্রাপ্ত অর্থের পূর্ণ হিসাব এবং কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়মমাফিক জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।”
উল্লেখ্য, চাঁদপুর-৩ আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই আসনে জয়নাল আবেদীন ছাড়াও বিএনপির শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেনসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার কোনো জোট ছাড়াই এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













