ডেক্স রিপোর্টঃ
সারাদেশে ‘দাঁড়িপাল্লার’ জোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রাজনৈতিক দল বেসামাল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দলটি এখন ‘ফ্যাসিবাদী’ চরিত্রে রূপ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হামলা চালাচ্ছে।
শনিবার সকালে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “নারীরা যখন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগে যাচ্ছেন, তখন তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এমনকি কোরআনের হাফেজ ও জামায়াত নেতাদের পিটিয়ে হত্যা করার মতো নিষ্ঠুরতা চালানো হচ্ছে।” তিনি সম্প্রতি শেরপুরে উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্যাতনের মাধ্যমে ‘শহীদ’ করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
বিগত শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, সেই ৩টি বড় দলের কোনো নেতাই বুক ফুলিয়ে বলতে পারবেন না যে তারা দুর্নীতি, অপশাসন ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত ছিলেন। মানুষ এখন এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়।”
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ৬টি ইসলামী দল, জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের দল এনসিপি এবং এলডিপিসহ গঠিত ১১-দলীয় জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আসন্ন নির্বাচনে এই জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে এমন এক সমাজ গঠন করা হবে যেখানে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও ইনসাফ নিয়ে বসবাস করতে পারবে।
৫ আগস্টের পরবর্তী চাঁদাবাজির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা বাস স্ট্যান্ড, হাট-ঘাট ও দোকানপাটে চাঁদাবাজি করছে, তারাই এখন সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না, তাই কারা এসব চাঁদাবাজিতে জড়িত তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে।”
চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির ও জোট প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম।
এছাড়া জেলা ও উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আগামী নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।













