Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

Magazines cover a wide array subjects, including but not limited to fashion, lifestyle, health, politics, business, Entertainment, sports, science,

  • Home
  • ধর্ম ও ইসলাম
  • ঈমান ও আকিদার ভিত্তি: কোরআন-সুন্নাহসহ শরিয়তের পাঁচ উৎস

ঈমান ও আকিদার ভিত্তি: কোরআন-সুন্নাহসহ শরিয়তের পাঁচ উৎস

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘ঈমান’ বা বিশ্বাস এবং ‘আকিদা’ বা ধর্মীয় মতাদর্শ। কোনো বিশ্বাসকে ঈমান ও আকিদার অংশ হিসেবে গণ্য করার জন্য ইসলামী শরিয়তের স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য পাঁচটি প্রধান উৎস দ্বারা তা প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক। এই উৎসগুলো কেবল ধর্মীয় বিধি-বিধানের জন্য নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর বিশ্বাস ও মূল্যবোধের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই পাঁচটি উৎস হলো:

১. আল-কোরআন: প্রধানতম উৎস

পবিত্র কোরআন হলো ঈমান, ইসলাম ও সকল শরয়ি বিধি-বিধানের প্রধান ও মৌলিক উৎস। এটি আল্লাহর বাণী, যা মানবজাতির জন্য পথনির্দেশিকা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আমি আত্মসমর্পণকারীদের জন্য প্রতিটি বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করলাম।” (সুরা: নাহল, আয়াত: ৮৯)

মুসলিমদের আকিদা ও আমলের ভিত্তি এই ঐশী কিতাবের মাধ্যমেই স্থাপিত হয়।

২. সুন্নাহ: দ্বিতীয় প্রধান ভিত্তি

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ বা হাদিস হলো ইসলামী আকিদা ও বিশ্বাসের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। সুন্নাহ কোরআনের ব্যাখ্যা ও ব্যবহারিক প্রয়োগকে স্পষ্ট করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:

“তিনি মনগড়া কথা বলেন না। কিন্তু (তিনি তাই বলেন) যা তার প্রতি অবতীর্ণ হয়।” (সুরা: নাজম, আয়াত: ৩-৪)

সাহাবিদের অনুসরণ (আসার): মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের অনুসৃত পথ ও পদ্ধতিও সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। নবীজি (সা.) উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন:

“তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নত এবং আমার হেদায়েতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত অনুসরণ করবে, তা দাঁত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে। সাবধান! (ধর্মে) প্রতিটি নব আবিষ্কার সম্পর্কে! কেননা প্রতিটি নব আবিষ্কার হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।” (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ৪৬০৭)

৩. ইজমা: উম্মতের ঐকমত্য

‘ইজমা’ বা মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য হলো শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহণযোগ্য উৎস। যে বিষয়ে কোরআন ও সুন্নাহতে সুস্পষ্ট বিধান নেই, সে বিষয়ে মুজতাহিদ ফকিহগণ সম্মিলিতভাবে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তা ইজমা হিসেবে বিবেচিত হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:

“কারো কাছে সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, তবে যেদিকে সে ফিরে যায়, সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব। আর তা কত মন্দ আবাস।” (সুরা: নিসা, আয়াত: ১১৫)

৪. যুক্তি ও বুদ্ধি: ইসলামের স্বীকৃতি

ইসলাম মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে শরিয়তের একটি উৎস হিসেবে স্বীকার করে। ইসলাম কোনোভাবেই অযৌক্তিক বা বুদ্ধিবিরোধী ধর্ম নয়। তবে এই যুক্তির ক্ষেত্রে সর্বজনীনতা ও সুস্থতা শর্ত। বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন:

“যা কিছু সরাসরি যুক্তিবিরোধী তা বাতিল এবং যা কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমায় নেই—তাও বাতিল। তবে তাতে (কোরআন ও সুন্নাহ) এমন কিছু শব্দ আছে, যা কতক মানুষ বুঝতে সক্ষম নয় অথবা তা থেকে ভুল অর্থ গ্রহণ করে। (ফলে তারা যে ব্যাখ্যা দাঁড় করায়) তা তাদের সৃষ্ট ফিতনা, কোরআন ও সুন্নাহর অংশ নয়।” (মাজমুউল ফাতায়া: ১১/৪৯০)

৫. সুস্থ মানব প্রকৃতি: সরল-সঠিক দ্বিন

‘সুস্থ মানব প্রকৃতি’ বা ‘ফিতরাত’ শরিয়তের অন্যতম উৎস। ইসলাম মানুষের প্রকৃতিগত পবিত্রতা ও সরলতাকে স্বীকৃতি দেয়। কোরআনে সুস্থ মানব প্রকৃতিকে ‘সরল-সঠিক দ্বিন’ বলা হয়েছে:

“তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বিনে প্রতিষ্ঠিত কোরো। আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কোরো, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সরল দ্বিন। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ জানে না।” (সুরা: রোম, আয়াত: ৩০)

এই পাঁচটি উৎসের সমন্বয়েই ইসলামী আকিদা ও বিশ্বাস সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। এই উৎসগুলোর সঠিক ও সম্মিলিত প্রয়োগের মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহ একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করতে সক্ষম হয়।

আরো দেখুন: https://haimcharprotidin.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts