স্টাফ রির্পোটার:
পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে ঘটলো মর্মান্তিক ঘটনা। জাপান প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে পুরোনো প্রেমের সম্পর্ক নতুন করে শুরু করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক বিবাহিত নারী।
মৃত নারীর নাম বৃষ্টি আক্তার। তিনি দাউদকান্দি উপজেলার উত্তর গাজীপুর গ্রামের শাহনেওয়াজের মেয়ে। অভিযুক্ত প্রেমিক হলেন একই এলাকার জাপান প্রবাসী আমির মোল্লা।
বৃষ্টি আক্তারের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, জাপান থাকাকালীন আমির মোল্লা বৃষ্টিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি দেশে না ফেরায় তাদের বিয়ে হয়নি। এর জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বৃষ্টি। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তার অন্যত্র বিয়ে হয় এবং সেই সংসারে তার একটি পুত্র সন্তানও আছে। অন্যদিকে, আমির মোল্লাও দেশে ফিরে অন্যত্র বিয়ে করেন।
বৃষ্টির পরিবারের দাবি, বিদেশে থাকা সত্ত্বেও আমির মোল্লা বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন, যা বৃষ্টির প্রথম দাম্পত্য জীবন ভেঙে দেয়। দেশে ফেরার পরও আমির তার নিজের বিয়ের কথা গোপন রেখে নতুন করে বৃষ্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা শুরু করেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই) আমির মোল্লা বৃষ্টিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকায় নিয়ে আসেন। বাবুরহাট জৈনপুর বাস কাউন্টারের কাছে তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেই মুহূর্তে বৃষ্টি আক্তার বিষাক্ত ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বৃষ্টি ও আমির মোল্লাকে একটি সিএনজি স্কুটার যোগে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। বৃষ্টির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তম্ময় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃষ্টি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে।
বৃষ্টির ভাই জানান, আমির মোল্লার কারণে তাদের বোনের প্রথম সংসার ভেঙে যায়। তিনি দেশে ফিরেও তাদের বোনকে বিরক্ত করছিলেন। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং তখন সে পলাতক ছিল।
খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে অভিযুক্ত আমির মোল্লাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে আমির মোল্লা পুলিশ হেফাজতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













