ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সিটি গ্রুপের বেঙ্গল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রুহুল আমিনকে গুলি করে চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনায় অবশেষে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার মোঃ রফিকুল ইসলাম রবিন ওরফে ‘রবিন ডাকাত’ (৩১) র্যাবের হাতে ধরা পড়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে র্যাব-১১-এর একটি বিশেষ দল অত্যাধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গত ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর এলাকার সমিতির পোলের গোড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ডাকাত সর্দার রবিন তার সহযোগীসহ রুহুল আমিনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তারা রুহুল আমিনের কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় রুহুল আমিন সাহসিকতার সঙ্গে ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করলে ডাকাত রবিন ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন রুহুল আমিন। হত্যার পর ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে রুহুল আমিনের নিহত হওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
নিহত রুহুল আমিনের বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করেও রবিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে পারছিল না, কারণ সে ছিল অত্যন্ত ধুরন্ধর।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে র্যাব সর্দার রবিনের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত রবিন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চান্দিরগাঁও এলাকার হাজী শামসুন নুর পাটোয়ারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার হিসেবে পরিচিত।
ডাকাত সর্দার রবিনকে আজ ১৮ নভেম্বর ফরিদগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তার পলাতক সহযোগীকে গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।













