নিজস্ব প্রতিনিধি:
চাঁদপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাম কিবরিয়া মিয়াজীর বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। আয়োজকরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে মামলা থেকে সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী কিবরিয়া মিয়াজীর নাম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনির এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সূচনা এন্টারপ্রাইজ জানায়, চলতি বছরের ১৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কর্তৃপক্ষ ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় তাঁদের প্রতিষ্ঠানকে ভাষানচর বালুমহল ইজারা প্রদান করে। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ নৌ-প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে বালুমহল বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসককে জানানোর পরও হয়রানি কমেনি। উল্টো বাল্কহেড ও ড্রেজারে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং সরকারি রাজস্ব পরিশোধের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
আয়োজকরা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উত্থাপন করেন ১২ নভেম্বরের ঘটনা নিয়ে। ওইদিন সকালে কোস্টগার্ড চাঁদপুর জোন মহনপুর লঞ্চঘাটের কাছ থেকে পাঁচজনকে আটক করে।
“আশ্চর্যজনকভাবে, আটকস্থল ভাষানচর বালুমহল এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হওয়া সত্ত্বেও, কোস্টগার্ড তাঁদের নামে মামলা দায়ের করে। আরও বিস্ময়কর হলো, আটককৃতদের সঙ্গে গোলাম কিবরিয়া মিয়াজীর কোনো ব্যবসায়িক বা পারিবারিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে,”—জানান আয়োজকরা।
তাঁদের দাবি, কিবরিয়া মিয়াজীর প্রতিপক্ষরা তাঁকে সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে হেয় করার লক্ষ্যেই এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে কিবরিয়া মিয়াজীকে ‘নৌ-ডাকাত’ হিসেবে উল্লেখ করায় শৃঙ্খলাপূর্ণ একটি বাহিনীর প্রতি তাঁরা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয় বলে জানান।
আয়োজকরা স্পষ্ট করে জানান, মোহনপুরে পাঁচজনকে আটক করার সময় ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া মিয়াজী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘উৎসব’ করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
উপস্থিত বক্তারা দাবি করেন, এই মিথ্যা মামলা একজন নিরপরাধ ব্যবসায়ীর মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং তা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিম্নলিখিত দাবিগুলো পূরণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান: দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। মামলা থেকে গোলাম কিবরিয়া মিয়াজীর নাম অবিলম্বে বাদ দেওয়া। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করায় কোস্টগার্ডের বক্তব্য প্রত্যাহার করা।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













