Shopping cart

Subtotal $0.00

View cartCheckout

Magazines cover a wide array subjects, including but not limited to fashion, lifestyle, health, politics, business, Entertainment, sports, science,

  • Home
  • দেশজুড়ে
  • বাবার কোলে ১৮ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে এখন শিক্ষক হতে চান হাসি

বাবার কোলে ১৮ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে এখন শিক্ষক হতে চান হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে হার মানিয়ে নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ করলেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার নাইছ খাতুন ওরফে হাসি। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বাবার কোলে চড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করার পর, সম্প্রতি অনার্স চূড়ান্ত পর্বের ফলাফলে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন এই অদম্য ছাত্রী।

গত শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, হাসি সিজিপিএ ৩.২ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।

♿️ শারীরিক অক্ষমতা জয় করার লড়াই

ধুনট উপজেলার বহালগাছা গ্রামের দরিদ্র দম্পতি নজরুল ইসলাম ও আকতার জাহানের মেয়ে হাসি জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুটো পা এবং ডান হাতে কোনো শক্তি নেই। তবে মনোবল আর একমাত্র সচল বাঁ হাতের জোরেই তিনি লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন।

হাসির বাবা নজরুল ইসলাম জানান, দূর থেকে বোঝার উপায় না থাকলেও তার মেয়ের দুটো পা ও একটি হাত নিশ্চল। ফলে হাঁটাচলা করতে পারেন না। একমাত্র বাঁ হাত দিয়ে তিনি কলম ধরে লিখতে পারেন। মেয়ের এই অদম্য ইচ্ছা পূরণের জন্য নজরুল ইসলাম ১৮ বছর ধরে নিয়মিত তাকে কোলে করে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত নিয়ে যেতেন।

🎓 উচ্চশিক্ষার পথে হাসি

৬ বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় বাবার কোলে চড়ে হাসির শিক্ষাজীবন। তিনি ২০১৭ সালে বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখায় এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৫৫ পয়েন্ট এবং ২০১৯ সালে একই মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ২.৭৫ পয়েন্ট পেয়ে কৃতকার্য হন। এরপরই তিনি ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনার্স শ্রেণিতে ভর্তি হন।

👩‍🏫 শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন

অদম্য হাসি তার এই সফলতা নিয়ে বলেন, “শরীরে শক্তি নেই, তাই কী হবে? মনোবল আর এক হাতের শক্তি নিয়েই জীবন শুরু করেছি। আমি কারও মাথায় বোঝা হয়ে থাকতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, “বাবার কোলে চড়ে একসময় রাস্তায় বের হলে মানুষ আড় চোখে তাকাত। লেখাপড়া করার কারণে মানুষ এখন ভালোবাসে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের সবার ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।” হাসি এখন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হয়ে সমাজের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করতে চান। হাসির এই সাফল্য সমাজের অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

আরো পড়ুন: www.haimcharprotidin.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts