হাইমচর প্রতিনিধিঃ
সুদূর মালয়েশিয়ায় আট বছর প্রবাস জীবন শেষে নিজের জন্মভূমি, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার পূর্বচর কৃষ্ণপুর গ্রামের বেপারী বাড়ির সন্তান নুর মোহাম্মদ বেপারী এখন একজন সফল কৃষক। ২০১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি কৃষি কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ধান, শীতকালীন শাক-সবজি এবং বিভিন্ন মৌসুমের ফসল চাষ করে তিনি জীবন ধারণ করছেন।
বেপারী জানান, প্রবাসে থাকলেও তার মন সবসময় পড়ে থাকত দেশের মাটিতে। দেশে ফিরে এসে তিনি কিছু নিজস্ব জমির সাথে আরও জমি ইজারা নিয়ে পুরোদমে কৃষিকাজে নেমে পড়েন। বর্তমানে তিনি তার কাজে আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো ও সন্তুষ্ট আছেন।
তবে সাফল্যের এই পথটি সহজ ছিল না। কৃষক নুর মোহাম্মদ বেপারী জানান, শুরুর দিকে ২০১৯-২০ সালে ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে তাকে অনেক টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। কৃষি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণার অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ফসলের ক্ষতিই ছিল এর মূল কারণ। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি, বরং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
বর্তমানে সরেজমিনে দেখা যায়, তিনি কিছু জমিতে ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন এবং সেগুলো মাড়াইয়ের কাজ শেষ করেছেন। অন্যদিকে, অপর একটি জমিতে তিনি চাষ করছেন নানা প্রকারের শীতকালীন শাক-সবজি। এর মধ্যে রয়েছে লাল শাক, পালং শাক, টমেটো, ধনিয়া পাতা সহ বিভিন্ন প্রকারের ফসল।
নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে কৃষক নুর মোহাম্মদ বেপারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আসলে দেশের মাটিতে সোনা ফলানো যাবে, তবে কৃষকদের পাশে ভালোভাবে সরকারকে দাঁড়াতে হবে। সকল প্রকার সারের দাম কমাতে হবে। তাহলে কৃষকরা দেশের মাটিতে সোনা ফলাতে পারবে।”
তার মতে, কৃষিতে ব্যবহৃত উপকরণের, বিশেষ করে সারের দাম নিয়ন্ত্রণ করা গেলে উৎপাদন খরচ কমবে, যা কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং আরও বেশি ফসল ফলাতে উৎসাহিত করবে। একজন প্রবাসী শ্রমিক থেকে সফল কৃষক হয়ে ওঠা নুর মোহাম্মদ বেপারী আজ দেশের হাজার হাজার কৃষকের মুখপাত্র হয়ে সরকারের কাছে এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি তুলে ধরলেন। তার এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, সঠিক সহায়তা পেলে বাংলার মাটি সত্যিই সোনা ফলাতে সক্ষম।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













