নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চলমান জাতীয় নির্বাচন ও ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে তর্কের জেরে সাকিব (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা এলাকার মোল্লা বাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাকিব ওই এলাকার ইউসুফ বাবুল মাস্টারের ছেলে এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই বাড়ির অটোরিকশাচালক তারেকের গাড়িতে করে গত শুক্রবার দাওয়াত খেতে যান সাকিব। ফেরার পথে জাতীয় নির্বাচন ও ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নিয়ে দুইজনের মধ্যে প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাকিব তারেককে চড় মারেন। এই ঘটনার জেরে বিকেলে তারেক ও তার ভাই ইসমাইলের সাথে সাকিবের পুনরায় বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে সাকিব একা বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা সাকিবকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সাকিবের মা শাহানারা বেগম জানান, তার ছেলের গলায় দুটি ও পেটে একটি গভীর ক্ষত রয়েছে। বর্তমানে তিনি অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসাধীন।
এদিকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদগঞ্জে এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এক প্রার্থী দাবি করেন, আহত সাকিব তাদের দলের কর্মী এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ওপর হামলা হয়েছে। তবে সাকিবের পরিবার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। সাকিবের মা স্পষ্ট জানান, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়; ব্যক্তিগত ও নির্বাচনী তুচ্ছ তর্কের জেরে এই হামলা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত তারেক ও ইসমাইল ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













