নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের হাইমচরে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে জালিয়াতি ও প্রতারণা করে প্রায় অর্ধশত গ্রাহকের নামে ২ কোটি টাকা ঋণ উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পক্ষে আইনি লড়াই ও প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে ‘আমরা চাঁদপুর ফাউন্ডেশন’।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা ব্যাংকে ডিপিএস করতে গিয়ে এখন জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেল খাটছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের চরভাঙ্গা গ্রামের তাজুল ইসলাম কবিরাজ, তার শ্যালিকা আছমা আক্তার এবং ভাই মো. আলাউদ্দিন কবিরাজ হাইমচর বাজার এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা পরিচালনা করতেন। ডিপিএস হিসাব খোলার প্রলোভন দেখিয়ে তারা স্থানীয় বারেক সরকার, শাহজালাল সরকার, সোহেল রানাসহ অন্তত ৫০ জন গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রাহকদের অজান্তেই ইসলামী ব্যাংক চাঁদপুর শাখার তৎকালীন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগসাজশে তাজুল ইসলাম কবিরাজ ওইসব তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া ঋণের ফাইল তৈরি করেন। গ্রাহকদের নামে চেক বই ইস্যু করে সেই ঋণ উত্তোলন করে সিন্ডিকেটটি পুরো টাকা আত্মসাৎ করে।
বিস্ময়কর তথ্য হলো, ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রকৃত ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ জানান, তাজুল ইসলাম গং আদালতে ভুয়া ব্যক্তিদের আসামি সাজিয়ে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ফলে প্রকৃত গ্রাহকরা কোনো আইনি নোটিশ পাননি। এমনকি তারা মামলার বিষয়ে জানতেনই না। পরবর্তীতে আদালত চূড়ান্ত রায় দিলে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ভুক্তভোগীরা কারাবরণ করেন। পরে তারা নিজেদের জমিজমা ও সম্পদ বন্ধক রেখে ঋণের ৫০ শতাংশ টাকা আদালতে জমা দিয়ে জামিনে মুক্ত হন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলা হয়, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট (এনআই) অ্যাক্ট অনুযায়ী আইনি নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক হলেও কোনো গ্রাহক তা পাননি। কোনো লেনদেন বা প্রতিদান (Consideration) ছাড়াই কীভাবে এই চেকের মামলাগুলো সচল থাকলো এবং রায় হলো—তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, “তাজুল ইসলাম কবিরাজ ২০২২ সাল থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে এই অপকর্ম শুরু করেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুকাল আত্মগোপনে থাকলেও এখন বর্তমান প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।”
উত্থাপিত দাবিমালা:
১. বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন।
২. দোষী এজেন্ট মালিক ও ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা।
৩. ভুক্তভোগীদের নিকট থেকে আদায়কৃত টাকা ফেরত ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৪. ইসলামী ব্যাংকের হাইমচর বাজার এজেন্ট শাখার লাইসেন্স বাতিল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মঞ্জুরুল হক, নাঈম সরকার, আইনজীবী মাসুদ রানা এবং ভুক্তভোগী শাহজালাল সরকার ও সোহেল রানা। এ সময় প্রায় অর্ধশত ভুক্তভোগী তাদের ওপর হওয়া আইনি হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।











