নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের হাইমচরে সরকারি তোলারাম কলেজের এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে কথিত সমন্বয়ক শরিফ মিজি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে শরিফ মিজিসহ চারজন নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে হাইমচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত শরিফ মিজি ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। আজ রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হাসান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ তোলারাম কলেজের ওই ছাত্রী তার খালার মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ছৈয়াল বাড়ি মোড় এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত শরিফ মিজি ও তার ৪-৫ জন সহযোগী ছাত্রীর গতিরোধ করে এবং শ্লীলতাহানি করে।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. সালাউদ্দিন জানান, “বোনের ওপর হেনস্তার প্রতিবাদ করতে গেলে আসামীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তাৎক্ষণিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।”
মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন— ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের হানিফ মিজির ছেলে শরিফ মিজি (২৮) ও হোসেন মিজি, আশরাফ ছৈয়ালের ছেলে কালু ছৈয়াল (৪০) এবং মৃত কালু খার ছেলে সবুজ খা (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত শরিফ মিজি নিজেকে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে মামলার হুমকি দেওয়া এবং ডাকাতিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হাসান বলেন “ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শরিফ মিজির বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, কথিত পদ-পদবী ব্যবহার করে শরিফ মিজি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। তারা দ্রুত এই বখাটে চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/













