খেলা ডেক্স:
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সিনিয়র পেসার জাহানারা আলম সম্প্রতি একের পর এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের অভ্যন্তরীন পরিবেশ এবং কোচিং ও ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ এনেছেন। বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর, ২০২৫) আরেক সাক্ষাৎকারে সাবেক নির্বাচক, প্রয়াত ইনচার্জ, কোচসহ আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই ক্রিকেটার।
অস্ট্রেলিয়ায় ক্লাব ক্রিকেট খেলতে থাকা জাহানারা আলমের নতুন অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল মঞ্জু, প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদ, ম্যানেজার ফাইয়াজ, কর্মকর্তা বাবু, কোচ ইমন, এবং ক্রিকেটার জ্যোতি, পিংকি, নাহিদা, রিতুমনি।
অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল মঞ্জু এবং প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ। জাহানারা মঞ্জুরুল মঞ্জুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, “উনি (মঞ্জুরুল ইসলাম) একদিন আমার কাছে আসলেন, আমার কাঁধে হাত রেখে বলছিলেন, তোর পিরিয়ডের কতদিন চলছে। পিরিয়ড শেষ হলে বলিস, আমার দিকটাও তো দেখতে হবে। পিরিয়ড শেষ হলে, যখন ডাকবো চলে আসিস।”
এছাড়াও, মঞ্জুরুল বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচে হ্যান্ডশেক না করে তাকে জড়িয়ে ধরতেন বলেও অভিযোগ করেন জাহানারা।
এই নারী ক্রিকেটার মন্তব্য করেছেন যে দেড় বছর ধরে বারবার অভিযোগ করেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছ থেকে কোনো প্রতিকার পাননি। তিনি জানান, তৎকালীন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান নাদেল স্যারকে বারবার জানানোর পরেও পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হয়নি। তাই এখন তিনি আল্লাহর কাছে বিচার চেয়েছেন।
জাহানারা আলম বলেন, “দেড় বছরে অসংখ্যবার অভিযোগ দিয়েছি। আমাদের যিনি হেড (তৎকালীন বিসিবির নারী উইঙ্গের হেড) নাদেল স্যার, উনাকে বারবার বলেছি। এক-দুই দিন ঠিক হতো, পরে আবার যা তাই।”

জাহানারা আলমের প্রথম অভিযোগের পরই বিসিবি একটি বিবৃতি দিয়েছিল। সেই বিবৃতিতে বোর্ডের পক্ষ থেকে বর্তমান অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অসত্য হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। বিসিবি ঐ বিবৃতিতে দলের ঐক্য ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসনীয় অগ্রগতির সময়ে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও উল্লেখ করে।
তবে, বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর বিসিবির শীর্ষ এক বোর্ড পরিচালক ঢাকা পোস্টকে জানান, বিষয়টি এখন আর ছোট পর্যায়ে নেই।
বিসিবির সেই পরিচালক বলেন, “এখন যেভাবে আসলে অভিযোগগুলো আসছে। অনেকের বিরুদ্ধে, এগুলো নিয়ে অবশ্যই আলোচনার বিষয় রয়েছে। এটা অবশ্যই বোর্ডে তোলা হবে এবং এটা আমার একার পর্যায়ে নাই এখন। এটা বড় পর্যায়ে চলে গিয়েছে। অলরেডি সভাপতিকে জানিয়েছি, আরো যারা সবাইকে জানিয়েছি। অবশ্যই এটা নিয়ে আমরা জানার চেষ্টা করব। আসলে ব্যাপারটা কী, এটা আমরা খতিয়ে দেখব। এতগুলো মানুষকে নিয়ে বলা হচ্ছে সুতরাং বিষয়গুলো বিসিবি খতিয়ে দেখবে।”
এর আগে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি নারী বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। আসরে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় (৭ দলের মধ্যে ৭ম স্থান) দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলো সামনে এলো।
ক্রিকেট মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, নারী ক্রিকেটের অভ্যন্তরে সত্যিই কোনো ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করছে কিনা এবং বিসিবি এই গুরুতর অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় কিনা।
আরো পড়ুন: https://haimcharprotidin.com/







